ফুলবাড়ীতে এক নারীকে বিয়ে করেন চীনা নাগরিক। বিয়ের দেড় মাস পর পালিয়ে গেছেন ওই গৃহবধূ। জানা গেছে, ওই বিদেশিকে তালাক দিয়ে গাইবান্ধার এক যুবককে বিয়ে করেছেন তিনি।
সোমবার (২২ জুন) বিকালে স্ত্রী মোর্শেদা বেগমের খোঁজে চীনা নাগরিক আন হংওয়েই ফুলবাড়ী উপজেলার ধর্মপুর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে আসেন। বিদেশি নাগরিকের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে একনজর দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
পরে থানায় গিয়ে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জানান তিনি। তবে ঘটনাস্থল ঢাকার সাভার এলাকায় হওয়ায় পুলিশ তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়।
আন হংওয়েই বলেন, মোর্শেদা প্রায় ২৪ লাখ টাকা মূল্যের মার্কিন ডলার নিয়ে উধাও হয়েছে। এছাড়াও তার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র খোয়া গেছে।
তার দাবি, মোর্শেদা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তালাক না দিয়েই অন্য একজনকে বিয়ে করেছেন।
এ ঘটনায় তিনি মোর্শেদার পরিবারের বিরুদ্ধেও প্রতারণার অভিযোগ এনে বলেন, তাদের পুরো পরিবার একটি প্রতারক চক্র হিসেবে কাজ করছে।
ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা মোর্শেদা ঢাকার সাভারের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করার সময় আন হংওয়েইর সঙ্গে পরিচিত হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং বিয়ে করেন। ওই দম্পতি ৩০ মে চীনে যাওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু মোর্শেদা তার চীনা স্বামীকে কৌশলে তালাক দিয়ে গত ১২ জুন পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় কাজী অফিসে গিয়ে গাইবান্ধা উপজেলার গিদারী গ্রামের ফিরোজ ও নাছরিন দম্পতির ছেলে নাছিম মিয়াকে তৃতীয় বারের মতো বিয়ে করেন।
চীনা যুবক ওই দেশের ঝাওঝেন, দাতুন টাউন, ডংমিং কাউন্টি প্রদেশ শান ডং নং ০৮৮, ঝাওঝেনতুন গ্রামের আনজিফাং ও মেংফেংজিয়াও দম্পতির ছেলে।
চীনা স্বামীর প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মোর্শেদার বিভিন্ন নাম্বারে যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফুলবাড়ী থানার ওসি মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, চীনা নাগরিক থানায় এসেছিলেন। অভিযোগের বিষয়টি ঢাকার সাভারে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাই তাকে সাভার থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply